জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- সমাজের গার্হস্থ্য হিংসা ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তর সমাজের অসহায়, দিব্যাঙ্গজন ও নির্যাতিতাদের জন্য কাজ করছে। সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা মন্ত্রী টিংকু রায় আজ ত্রিপুরা মহিলা কমিশন অফিসের নীচ তলায় পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জন্য অতিরিক্ত আরও একটি নতুন সখী ওয়ান স্টপ সেন্টারের উদ্বোধন করে একথা বলেন।
এই সখী ওয়ান স্টপ সেন্টার চালুর মূল উদ্দেশ্য হলো এই সেন্টারে সমাজের বিপদগ্রস্ত, শোষিত, বঞ্চিত ও নির্যাতিতা মহিলাগণ বিনামূল্যে ৫ দিন থাকতে পারবেন। এরপর তারা শক্তি সদনে তিন বছর বিনামূল্যে থাকা ও খাওয়ার সংস্থান পাবেন। এছাড়া এই মহিলাগণের জন্য এখানে বিনামূল্যে কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। তারা বিনামূল্যে বিচার ব্যবস্থারও সুযোগ পাবেন। এই নতুন সখী ওয়ান স্টপ সেন্টারের উদ্বোধন করে সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষামন্ত্রী টিংকু রায় বলেন, সমাজের অবক্ষয় রোধে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, মা সুস্থ, শিক্ষিত ও স্বনির্ভর হলেই পরিবার ও সমাজ স্বনির্ভর হয়ে উঠবে। শিশু ও মহিলাদের কল্যাণে রাজ্য সরকার অগ্রাধিকার দিয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে রাজ্যের ৮টি জেলায় ৮টি সখী ওয়ান স্টপ সেন্টার চালু রয়েছে। ইতিমধ্যেই কুমারঘাটে একটি সখী ওয়ান স্টপ সেন্টার চালু করা হয়েছে। আজ আগরতলায় এই ওয়ান স্টপ সেন্টার চালু করা হলো।
তিনি বলেন, বর্তমানে কৃষ্ণনগরে লক্ষ্মীবাই মেমোরিয়াল ওয়ার্কিং উইম্যান হোস্টেল চালু রয়েছে। রাজ্যে আরও ১০টি ওয়ার্কিং উইম্যান হোস্টেল নির্মাণের কাজ চলছে। এই ১০টি ওয়ার্কিং হোস্টেল নির্মাণে ১০০ কোটি টাকার উপর ব্যয় হবে। প্রায় ১০০ জন মহিলা প্রতিটি উইম্যান ওয়ার্কিং হোস্টেলে বিনামূল্যে থাকতে পারবেন এবং বিনামূল্যে খাবার পাবেন।
তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার মহিলাদের সশক্তিকরণের জন্য বহুমুখী প্রকল্প গ্রহণ করেছে। নারী ক্ষমতায়নের জন্য রাজ্যের জিলা পরিষদ, পঞ্চায়েত সমিতি, গ্রাম পঞ্চায়েত, নগর শাসিত সংস্থা ও মার্কেট শেড বিতরণে মহিলাদের জন্য ৫০ শতাংশ সংরক্ষণ রাখা হয়েছে। সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ সংরক্ষণ রাখা হয়েছে। রাজ্যের স্বসহায়ক দলের মহিলাদের স্বনির্ভর হওয়ার জন্য এখন পর্যন্ত ২,১০০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, শুধু আইনের মাধ্যমে নয়, সমাজে বাল্যবিবাহ, অন্যায় অবিচার ও অসহায়দের সহায়তায় আমাদের সকলকে সচেতন হতে হবে।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল বলেন, এটা একটা মহৎ কাজ। তিনি বলেন, মহিলারা যাতে সমাজে মাথা উঁচু করে চলতে পারেন সে লক্ষ্যে রাজ্য সরকার কাজ করছে। সমাজের অন্তিম এলাকার মহিলাগণ যাতে সখী ওয়ান স্টপ সেন্টারের সুযোগ পেতে পারেন সে লক্ষ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বাল্যবিবাহ ও নেশামুক্ত রাজ্য গড়তে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। অনুষ্ঠানের সভাপতি ত্রিপুরা মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন ঝর্ণা দেববর্মা বলেন, নির্যাতিতা মহিলাগণ যাতে তৎকালীন সহায়তা পায় তারজন্য এই সখী ওয়ান স্টপ সেন্টার চালু করা হয়েছে। তিনি এক ত্রিপুরা শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা গড়তে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।এছাড়া বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের অতিরিক্ত সচিব তপন কুমার দাস। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের পশ্চিম জেলা পরিদর্শক দীপক লাল সাহা। উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম জেলার অতিরিক্ত জেলাশাসক অরূপ দেব, সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের যুগ্ম অধিকর্তা বিজন চক্রবর্তী সহ আরক্ষা প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তাগণ

