Site icon janatar kalam

দিল্লির জাতীয় যুব উৎসবে ত্রিপুরার গর্ব, অংশ নিচ্ছে ৬২ জন তরুণ–তরুণী

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- আগামী ১০ থেকে ১২ জানুয়ারি নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ২৯তম জাতীয় যুব উৎসব। এই জাতীয় মঞ্চে ত্রিপুরার সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা ও উন্নত ভারতের স্বপ্নকে তুলে ধরতে প্রস্তুত রাজ্যের ৬২ সদস্যের এক যুব প্রতিনিধি দল।

“বিকশিত ভারত ২০৪৭” শীর্ষক থিমকে সামনে রেখে আয়োজিত এই উৎসবে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা তরুণ প্রতিভারা অংশ নেবেন। ত্রিপুরার প্রতিনিধি দলে রয়েছেন রাজ্যস্তরের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, চিত্রাঙ্কন ও মডেল ডিজাইন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী তরুণ–তরুণীরা।

এবারের উৎসবে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে প্রথমবারের মতো সংযোজিত হয়েছে ‘ইয়াং লিডার্স ডায়ালগ’। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি উন্নত ভারত গড়ে তুলতে তরুণ প্রজন্মের কল্পনাশক্তি, দৃঢ় সংকল্প ও উদ্ভাবনী চিন্তাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে—যা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাবনারই প্রতিফলন।

দিল্লি যাত্রার আগে সোমবার আগরতলার ঐতিহ্যবাহী উজ্জয়ন্ত প্রাসাদ প্রাঙ্গণে এক অনুষ্ঠানে যুব প্রতিনিধি দলের সদস্যদের সংবর্ধনা জানান যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া মন্ত্রী টিঙ্কু রায়। তিনি তরুণদের উদ্দেশে বলেন, ত্রিপুরার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে আন্তরিকতা ও গর্বের সঙ্গে জাতীয় মঞ্চে তুলে ধরতে হবে। পাশাপাশি অন্যান্য রাজ্যের যুব প্রতিভাদের কাছ থেকে শেখার আহ্বানও জানান তিনি।

“এই উৎসব শুধু পরিবেশনার নয়, ত্রিপুরার আত্মাকে তুলে ধরার মঞ্চ,”—বলেন মন্ত্রী।

মন্ত্রী টিঙ্কু রায় আরও জানান, তরুণদের নেশামুক্ত জীবনের শপথ নিয়ে সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা উচিত। একইসঙ্গে তিনি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ত্রিপুরার অগ্রগতির কথা তুলে ধরে রেল যোগাযোগ, পরিষেবা ও পরিকাঠামো উন্নয়নের বিষয়েও আলোকপাত করেন।

অনুষ্ঠানে যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তরের সচিব ড. প্রদীপ কুমার চক্রবর্তী প্রতিনিধি দলকে উৎসবের বিভিন্ন কর্মসূচি সম্পর্কে অবহিত করেন এবং দিল্লিতে অবস্থানকালে শৃঙ্খলা ও সরকারি নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দেন।

এদিনের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দপ্তরের ডিরেক্টর এল. দারলং, মাই ভারত পোর্টাল (ত্রিপুরা)-এর ডিরেক্টর বি.পি. শাহ সহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা।

কেন্দ্রীয় যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া মন্ত্রকের উদ্যোগে আয়োজিত এই জাতীয় যুব উৎসবে দেশের বিভিন্ন রাজ্যের যুব প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ত্রিপুরার জন্য এই অংশগ্রহণ কেবল গর্বের বিষয়ই নয়, বরং জাতীয় স্তরে রাজ্যের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক পরিচয় তুলে ধরার এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

Exit mobile version