Site icon janatar kalam

ত্রিপুরার আলু চাষে বিপ্লব: ARC প্রযুক্তিতে চারগুণ উৎপাদন, ২০২৯–৩০ সালেই স্বনির্ভরতার লক্ষ্য

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি:- ত্রিপুরার কৃষিক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের সূচনা হলো আজ, যখন কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী রতন লাল নাথ কাঞ্চনপুরের সুভাষ নগর ও ডাইনছড়া ভিলেজ কাউন্সিলের কর্ণজয় পাড়ায় ARC (অটোমেটিক রিজ কাল্টিভেশন) পদ্ধতিতে আলু রোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিলেন। কৃষক জ্যোতির্ময় দাস ও ধনঞ্জয় দাসের জমিতে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচি প্রত্যক্ষ করে মন্ত্রী জানান, এই আধুনিক প্রযুক্তি শুধুমাত্র কৃষিকাজের রূপান্তরই নয়, কৃষকদের জন্য এক নতুন আশার আলো।

মন্ত্রী বলেন, “কৃষক ও মাটির সম্পর্ক চিরন্তন। ARC প্রযুক্তি সেই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করছে। কৃষক সমৃদ্ধ হলেই রাজ্যের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।” তিনি আশা প্রকাশ করেন যে কাঞ্চনপুর থেকে করবুক পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এই উদ্যোগ আরও বহু কৃষককে উৎসাহিত করবে।

কাঞ্চনপুরে ইতোমধ্যেই ৫৫ জন কৃষককে ARC প্রকল্পের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে ত্রিপুরায় ২৩,৭০০ কৃষক ৪৭,৩৪১ কানি জমিতে আলু চাষ করেন। তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে উৎপাদনশীলতায়। আগে যেখানে প্রতি কানিতে ২,৫০০–৩,০০০ কেজি আলু উৎপাদন হতো, সেখানে ARC প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদন বেড়ে প্রতি কানিতে ৯,০০০–১০,০০০ কেজিতে পৌঁছেছে—যা রাজ্যের কৃষি উন্নয়নে বড়ো মাইলফলক।

মন্ত্রী রতন লাল নাথ আরও জানান, ২০২৮–২৯ অর্থবছরের মধ্যে বীজ আলু উৎপাদনে স্বনির্ভরতা এবং ২০২৯–৩০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ আলু উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনই সরকারের লক্ষ্য। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই নতুন প্রযুক্তি ত্রিপুরার কৃষকদের উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক কৃষির পথে এগিয়ে দেবে।

কৃষিমন্ত্রীর মতে, ARC পদ্ধতি ত্রিপুরার কৃষিক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে এবং আলু উৎপাদনের মাধ্যমে রাজ্যকে স্বনির্ভরতার দিকে দ্রুত এগিয়ে নেবে।

Exit mobile version