Site icon janatar kalam

জনজাতি শিক্ষার প্রসার ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দিচ্ছে রাজ্য সরকার: মুখ্যমন্ত্রী

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- রাজ্যের জনজাতি এলাকায় শিক্ষার প্রসার, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করছে রাজ্য সরকার। জনজাতি মহিলাদের পরম্পরাগত হস্তশিল্পের সঙ্গে আরও বেশি করে যুক্ত করে তাদের স্বনির্ভর করে তোলার দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আজ আগরতলার রবীন্দ্র ভবনে জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা ।

অনুষ্ঠানে জনজাতি মহিলাদের রিয়া ও পাছড়া বুননের জন্য সুতা প্রদান এবং বিভিন্ন বোর্ডের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় কৃতী জনজাতি ছাত্রছাত্রীদের মেরিট অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকার চায় উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে জনজাতি সম্প্রদায়ের মানুষও সমানভাবে অংশীদার হোক। জনজাতি মহিলাদের আরও স্বনির্ভর করে তুলতে সরকার কাজ করছে এবং বর্তমানে তাদের হাতে তৈরি রিয়া ও পাছড়া জিও-ট্যাগও পেয়েছে। এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছে দিতে এই স্বীকৃতির যথাযথ ব্যবহার করার আহ্বান জানান তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, জনজাতিদের আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকার ‘ধরতি আবা জনভাগীদারি অভিযান’ এবং ‘প্রধানমন্ত্রী জনমন’ প্রকল্পসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। একইভাবে রাজ্য সরকারও ‘মুখ্যমন্ত্রী জনজাতি উন্নয়ন মিশন’-সহ নানা প্রকল্পের মাধ্যমে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করছে। রিয়াং জনজাতির আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য সরকার ৮০০ কোটি টাকার বিশেষ প্যাকেজ গ্রহণ করেছে বলেও তিনি জানান।

জনজাতি এলাকায় বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে ৫০০টি বৈদ্যুতিক অটো বিতরণের পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি জনজাতি যুবক-যুবতীদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শক্তিশালী মানবসম্পদ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি নেশামুক্ত ত্রিপুরা গড়তে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। এছাড়া জনজাতি এলাকার হোস্টেলগুলিতে ছাত্রছাত্রীদের সুবিধার্থে সরকার আরও ১৭০ জন হোস্টেল সুপার নিয়োগ করবে বলেও তিনি জানান। বর্তমানে রাজ্যের প্রায় ৩৪ হাজার জনজাতি ছাত্রছাত্রী বিভিন্ন হোস্টেলে থেকে উপকৃত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী পাঁচটি মহকুমা থেকে আগত জনজাতি মহিলাদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে রিয়া-পাছড়া বুননের সুতা তুলে দেন এবং মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় কৃতী ছাত্রছাত্রীদের শংসাপত্র ও আর্থিক পুরস্কার প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনজাতি কল্যাণমন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা। তিনি বলেন, রাজ্য সরকার জনজাতি ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার প্রসারে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। আগে রাজ্যে মাত্র চারটি একলব্য মডেল আবাসিক বিদ্যালয় ছিল, বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে ২১টিতে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ছাত্রছাত্রীদের সুবিধার্থে নতুন নতুন হোস্টেল নির্মাণ করা হচ্ছে। ‘মুখ্যমন্ত্রী জনবিকাশ যোজনা’ ও ‘মুখ্যমন্ত্রী রাবার মিশন’ প্রকল্পের মাধ্যমে জনজাতি এলাকায় বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের অতিরিক্ত সচিব তথা অধিকর্তা শুভাশিস দাস। এছাড়াও দপ্তরের অন্যান্য আধিকারিকরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

Exit mobile version