Site icon janatar kalam

এডিসি নির্বাচনে ২৮ আসনেই লড়াইয়ের ঘোষণা জিএমপির

জনতার কলম ত্রিপুরা আগরতলা প্রতিনিধি :- আসন্ন স্বশাসিত জেলা পরিষদ (এডিসি) নির্বাচনে রাজ্যের ২৮টি আসনেই লড়াইয়ে নামার সিদ্ধান্ত নিল ত্রিপুরা রাজ্য উপজাতি গণমুক্তি পরিষদ (জিএমপি)। ২৯ ও ৩০ জানুয়ারি আগরতলার টাউন হল সংলগ্ন রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনের সামনে আয়োজিত সংগঠনের ২৩তম কেন্দ্রীয় কমিটির সম্মেলনে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নবনির্বাচিত সভাপতি নরেশ জমাতিয়া, সাধারণ সম্পাদক রাধাচরণ দেববর্মা ও বর্ষীয়ান নেতা প্রণব দেববর্মা জানান, সংগঠনের সম্মেলনে বিপুল সংখ্যক প্রতিনিধির উপস্থিতি আন্দোলনের প্রতি নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। এই সম্মেলনে অল ইন্ডিয়া ফোরাম ফর ট্রাইবাল রাইটস-এর জাতীয় নেতৃত্ব জিতেন চৌধুরী, বৃন্দা কারাত ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারও উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনে ২৫ সদস্যের নতুন ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করা হয়, যার মধ্যে ৬ জন নতুন মুখ রয়েছেন। পাশাপাশি ১৩৭ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটিও পুনর্গঠন করা হয়। সাধারণ সম্পাদক রাধাচরণ দেববর্মা বলেন, এডিসি নির্বাচনে বিজেপির ‘২৮টি আসন জয়ের’ দাবিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে “ইঞ্চি ইঞ্চি করে লড়াইয়ে” নামবে জিএমপি।

সম্মেলনের বক্তারা বিজেপি-আইপিএফটি জোটের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তোলেন। তাঁদের দাবি, বর্তমান শাসনকালে এডিসি দুর্নীতি ও অপশাসনের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। চাকরির সুযোগ কমে গেছে, সম্পদ লুট হচ্ছে এবং বাম আমলে গড়ে তোলা বহু সম্পত্তি ইজারা বা বন্ধক রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহার বিরুদ্ধেও খুমুলুঙে নিয়মিত পর্যালোচনা বৈঠক না করার অভিযোগ তোলা হয়।

সম্মেলনে ১০ দফা দাবি সনদ গৃহীত হয়েছে। আগামী দিনে দাবিগুলি আদায়ে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে বলে নেতৃত্বের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

রাধাচরণ দেববর্মা আরও অভিযোগ করেন, বিজেপি ও আরএসএস উপজাতি সমাজের উপর নিজেদের আদর্শ চাপিয়ে দিতে চাইছে। পাশাপাশি কোকবরক ভাষার রোমান লিপির দাবিকেও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়।

সভাপতির ভাষণে নরেশ জমাতিয়া বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারকে “নতুন ফ্যাসিবাদী শাসন” বলে আক্রমণ করেন। একই সঙ্গে তিনি বিজেপির পাশাপাশি টিপরা মথাকেও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে চিহ্নিত করে বলেন, “প্রধান শত্রু বিজেপি হলেও মথাও বিরোধী শক্তি হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। তারা চরমপন্থী শক্তিকে মদত দিচ্ছে।” তাঁর মতে, আগামী লড়াই শুধু রাজনৈতিক নয়, আদর্শিক লড়াইও।

Exit mobile version