Site icon janatar kalam

অমৃত কালে সমাজসেবায় এগিয়ে আসার আহ্বান কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে. পি. নাড্ডার 

জনতার কলম ওয়েবডেস্ক :- উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদে অবস্থিত তির্থঙ্কের মহাভির ইউনিভার্সিটির সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে নবস্নাতক ছাত্রছাত্রীদের সমাজের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানালেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে. পি. নাড্ডা। শনিবার আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দেশের ‘অমৃত কাল’-এ তরুণ প্রজন্মের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেছে এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি উন্নত ভারত গড়ে তুলতে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।

স্নাতকদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, সমাবর্তন অনুষ্ঠান শুধুমাত্র শিক্ষাজীবনের সমাপ্তি নয়, বরং দায়িত্ব ও সেবার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। ছাত্রছাত্রীরা এমন এক সময়ে পেশাজীবনে প্রবেশ করছে যখন দেশ ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জে. পি. নাড্ডা বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে গত এক দশকে দেশের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো, চিকিৎসা শিক্ষা এবং সাশ্রয়ী চিকিৎসা পরিষেবায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। তিনি জানান, আগে যেখানে দেশে মাত্র ৬টি অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সাইন্সস (AIIMS) ছিল, বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে ২৩-এ দাঁড়িয়েছে, যার ফলে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা এবং মানসম্মত চিকিৎসা শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে।

স্বাস্থ্যখাতে সাফল্যের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ভারতে মাতৃমৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং যক্ষ্মা সংক্রমণের হারও কমেছে, যা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতির প্রমাণ।

চিকিৎসা ব্যয়ের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানুষের নিজস্ব খরচে চিকিৎসার ব্যয় আগের তুলনায় অনেকটাই কমেছে। এ ক্ষেত্রে আয়ুষ্মান ভারত প্রধান মন্ত্রী জন আরোগ্য Yojana-এর ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই প্রকল্প বিশ্বের বৃহত্তম স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি, যেখানে প্রতি পরিবারকে বছরে সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়।

সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, তির্থঙ্কর মহাভির ইউনিভার্সিটির প্রায় ১৫০টি শিক্ষাক্রমের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশই চিকিৎসা ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যবিষয়ক। পাশাপাশি বিভিন্ন পটভূমির ছাত্রছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রায় ৭৫ কোটি টাকার বৃত্তি প্রদান করেছে।

এদিনের সমাবর্তনে মোট ৬,০৪১ জন শিক্ষার্থী স্নাতক, স্নাতকোত্তর, পিএইচডি ও ডিপ্লোমা ডিগ্রি লাভ করেন। এর মধ্যে ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষে পদকপ্রাপকদের মধ্যে মেয়েদের সংখ্যাই বেশি ছিল। মোট ১৫৬ জন পদকপ্রাপকের মধ্যে ১১২ জনই ছাত্রী।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক এবং রাজ্যের অর্থ ও সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী সুরেশ কুমার খান্নাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক ও অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

Exit mobile version